Friday, September 25, 2020

কিছু বলা কথা





কিছু বলা কথা:-


প্রায় তিন দশকের সময়কাল (শেষ মুদ্রিত সংখ্যা ছিল ১৪০০-১৪০১)পার করে '
নৌবত' যে নতুন আঙ্গিকে আত্মপ্রকাশ করছে নিঃসন্দেহে এটা আনন্দের।প্রিয় পাঠক কেন এতদিন পত্রিকা বন্ধ ছিল আর কেনই আবার প্রকাশিত হল সে বিষয়ে বিস্তৃত কথনে গিয়ে এই দুঃসময়ে আপনাদের আর বিড়ম্বিত নাই বা করলাম। কখনো সময় হলে সে সম্পর্কে বলা যাবে।আজ 'নৌবত'-এর শরৎ সংখ্যার নতুন রূপে এই প্রকাশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের পত্রিকা মনে করে পড়বেন এটুকু প্রত্যাশা।

যে সময়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি তা যে আমাদের মানুষজন্মের ইতিহাসে কতটা ক্ষত তা সময় বলবে ! মারী আক্রান্ত পৃথিবীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমরা সকলেই ভীষণভাবে বিপন্ন।এর পাশাপাশি,দেশ থেকে প্রদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ থেকে শ্রেণি মেরুকরণের কৌশলী প্রচেষ্টা চলছে তাও কম আতঙ্কের নয়।বিশেষ করে খুব সুকৌশলে বাঙালি সত্ত্বার উপর যেভাবে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে  (ভাষানীতি, শিক্ষানীতি থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে) যা হয়তো আমাদের আরও এক বড়ো বিপন্নতার সম্মুখীন করবে।তাই বলি,সাধু সাবধান!

যাই হোক সব বিপন্নতা ছাড়িয়ে বাঙালি যে ফিনিক্স পাখি হয়ে উঠতে পারে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ ইতিহাস প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। আর, সাহিত্য যদি সময়ের জারিত দ্রবণ হয় তাহলে সমসাময়িক সাহিত্য পত্রিকাগুলো হয়তো সময়ের দাবি মেনে সেই বোধকে একটু হলেও সচকিত করে তোলার কাজে ব্রতী থাকবে।যুগে যুগে তাই-ই তো করে এসেছে।

'নৌবত' আপাতত ব্লগজিন হিসেবে দ্বিমাসিক সংখ্যা রূপে প্রকাশিত হবে।এই সংখ্যার উল্লেখযোগ্য সংযোজন ষাট দশকের হাংরি আন্দোলনের অন্যতম কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা এবং প্রয়াত দুই কবি রফিক আলাম ও আকাশলীনার একটি করে কবিতা। তাঁদের জন্য আন্তরিক শুভকামনা।

প্রসঙ্গত, মহামারীর এই আবহে পড়ে যাঁরা প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।সেই সঙ্গে কোবিদ-১৯ যোদ্ধা হিসেবে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছেন এবং মারীর প্রভাবে যাঁরা প্রতিমুহূর্তে বিপন্নতার মুখোমুখি হয়েও জীবন সংগ্রামে নিজেদের আত্মবিসর্জন দিয়ে সভ্যতার প্রবাহকে অজর রেখেছেন তাঁদের প্রতি রইল আনত কৃতজ্ঞতা।

খুব দ্রুত সংখ্যাটির প্রস্তুতি নেওয়া, পত্রিকার পরিসরগত সমস্যা এবং পরবর্তী সংখ্যাগুলোর জন্য কিছু পরিকল্পনা থাকায় ইচ্ছে থাকলেও অনেকের লেখা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী সংখ্যাগুলোর জন্য অবশ্যই তাঁদের লেখা নেওয়ার ইচ্ছা রইল। আশা করি, সকলের সহযোগিতা পাবো।

তাসত্ত্বেও বলতে চাই,এভাবে তাৎক্ষণিক আহ্বানে যাঁরা আমাকে লেখা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, কিংবা ব্যস্ততার কারণে যাঁরা দিতে পারেননি তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। আর,পত্রিকাটি প্রকাশে সর্বদা যে দু-তিন জন মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা আমার আত্মজন।তাই, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে বিব্রত করতে চাইলাম না। প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা হোক আমাদের পাথেয়।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালির মননে লেগেছে আলো।তাই, আসুন সমস্ত আঁধার দূরে সরিয়ে বিষাদের মধ্যে আনন্দে থাকতে চেষ্টা করি। আর, মারী প্রতিরোধে সার্বিকভাবে আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠি এই প্রত্যাশায়। 🖋


No comments:

Post a Comment

নৌবত,শরৎ সংখ্যা ১৪২৭

নৌবত১ম © শরৎ, ১৪২৭ © অক্টোবর, ২০২০  যোগাযোগ-  tajimurrahamanbeng@gmail.com