Friday, September 25, 2020
সুচিপত্র
যাঁদের লেখায় এই সংখ্যা সমাদৃত:-
কবিতা:- এক
মলয় রায়চৌধুরী,গৌরশংকর বন্দোপাধ্যায়, দীপক হালদার, আবদুস শুকুর খান, শ্যামল জানা, শ্রীজাত, শক্তিপদ মুখোপাধ্যায়, নমিতা চৌধুরী,বিজয় সিংহ, পঙ্কজ মান্না, রফিক আলাম,মনিশংকর রায়, মিহির সরকার,অসিকার রহমান, অমলেন্দু বিশ্বাস, রামকিশোর ভট্টাচার্য, তৈমুর খান, উদয়ন ভট্টাচার্য, দুর্গাদাস মিদ্দা, সুধাংশু রঞ্জন সাহা, উমাপদ কর আশিষ মিশ্র, মুহম্মদ মতিউল্লাহ, বিশ্বজিৎ রায়, নাসিম-এ-আলম, নাগসেন,কেদারনাথ দাস, গৌতম হাজরা এবং আকাশলীনা
প্রবাসী কলমে:-আমিরুল আরহাম,হাসান আল আব্দুল্লাহ
আমার বাংলাদেশ:- মাহমুদ কামাল, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, মো: হুমায়ূন কবীর (অর্ণব আশিক),কামরুল বাহার আরিফ, শিহাব শাহরিয়ার, হাসান মাহমুদ, মুকুল রায়, সৌহার্দ্য সিরাজ,পিয়াস মজিদ, মামুন রশীদ,রুদ্র হাসান, মাহফুজ মুজাহিদ,নিলয় রফিক, বঙ্গ রাখাল ও শেখ সাদী মারজান।
প্রবন্ধ:- মজিদ মাহমুদ,আবু রাইহান ও অরুন পাঠক।
কবিতা:-দুই
নৃপেন চক্রবর্তী, বৃন্দাবন দাস, কালীপদ ঘোষ,ফটিক চৌধুরী,সমরেন্দ্র মন্ডল, দেবাশিষ সরখেল ,সুনীল মাজি,হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়, গোলাম রসুল, সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, সুস্মেলি দত্ত, কিংকর চক্রবর্তী, অমিতাভ রায়,জয়গোপাল মন্ডল,অরূপ দত্ত, শ্যামল রক্ষিত, সুগত চৌধুরী, সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, সৈয়দ নৌসাদ আলি,লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল,সমর সুর,তাপস মাইতি, রাজীব ঘাঁটী,গৌতম সাহা,এবাদুল হক, রিয়াদ হায়দার, শান্তনু ভট্টাচার্য, গৌতম রায়,মধুছন্দা মিত্র ঘোষ,নরেশ দাস , অরুণ ভট্টাচার্য,প্রতাপ মুখোপাধ্যায়,সুলেখা সরকার,দয়াময় পোদ্দার,অমিত গলুই, সুনেন্দু পাত্র, ফিরদৌসী আলম, মোনালিসা রেহমান, অংশুমান চক্রবর্তী,
সাদেক, বিধানেন্দু পুরকাইত, কাজী নিজামুদ্দিন, চন্দন দাস,মহিবুর রহমান, ময়ূখ হালদার , বীরেন্দ্রকৃষ্ণপড়ুয়া, মুস্তাফিজ রহমান,মলয় সরকার,বিমল চক্রবর্তী ,ফারুক আহমেদ এবং তাজিমুর রহমান ।
ছবি ঋণ- দিলীপ গুচ্ছাইত, বিশ্বজিৎ মন্ডল, সাদেক ও গুগল
কিছু বলা কথা
কিছু বলা কথা:-
প্রায় তিন দশকের সময়কাল (শেষ মুদ্রিত সংখ্যা ছিল ১৪০০-১৪০১)পার করে 'নৌবত' যে নতুন আঙ্গিকে আত্মপ্রকাশ করছে নিঃসন্দেহে এটা আনন্দের।প্রিয় পাঠক কেন এতদিন পত্রিকা বন্ধ ছিল আর কেনই আবার প্রকাশিত হল সে বিষয়ে বিস্তৃত কথনে গিয়ে এই দুঃসময়ে আপনাদের আর বিড়ম্বিত নাই বা করলাম। কখনো সময় হলে সে সম্পর্কে বলা যাবে।আজ 'নৌবত'-এর শরৎ সংখ্যার নতুন রূপে এই প্রকাশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের পত্রিকা মনে করে পড়বেন এটুকু প্রত্যাশা।
যে সময়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি তা যে আমাদের মানুষজন্মের ইতিহাসে কতটা ক্ষত তা সময় বলবে ! মারী আক্রান্ত পৃথিবীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমরা সকলেই ভীষণভাবে বিপন্ন।এর পাশাপাশি,দেশ থেকে প্রদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ থেকে শ্রেণি মেরুকরণের কৌশলী প্রচেষ্টা চলছে তাও কম আতঙ্কের নয়।বিশেষ করে খুব সুকৌশলে বাঙালি সত্ত্বার উপর যেভাবে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে (ভাষানীতি, শিক্ষানীতি থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে) যা হয়তো আমাদের আরও এক বড়ো বিপন্নতার সম্মুখীন করবে।তাই বলি,সাধু সাবধান!
যাই হোক সব বিপন্নতা ছাড়িয়ে বাঙালি যে ফিনিক্স পাখি হয়ে উঠতে পারে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ ইতিহাস প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। আর, সাহিত্য যদি সময়ের জারিত দ্রবণ হয় তাহলে সমসাময়িক সাহিত্য পত্রিকাগুলো হয়তো সময়ের দাবি মেনে সেই বোধকে একটু হলেও সচকিত করে তোলার কাজে ব্রতী থাকবে।যুগে যুগে তাই-ই তো করে এসেছে।
'নৌবত' আপাতত ব্লগজিন হিসেবে দ্বিমাসিক সংখ্যা রূপে প্রকাশিত হবে।এই সংখ্যার উল্লেখযোগ্য সংযোজন ষাট দশকের হাংরি আন্দোলনের অন্যতম কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা এবং প্রয়াত দুই কবি রফিক আলাম ও আকাশলীনার একটি করে কবিতা। তাঁদের জন্য আন্তরিক শুভকামনা।
প্রসঙ্গত, মহামারীর এই আবহে পড়ে যাঁরা প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।সেই সঙ্গে কোবিদ-১৯ যোদ্ধা হিসেবে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করছেন এবং মারীর প্রভাবে যাঁরা প্রতিমুহূর্তে বিপন্নতার মুখোমুখি হয়েও জীবন সংগ্রামে নিজেদের আত্মবিসর্জন দিয়ে সভ্যতার প্রবাহকে অজর রেখেছেন তাঁদের প্রতি রইল আনত কৃতজ্ঞতা।
খুব দ্রুত সংখ্যাটির প্রস্তুতি নেওয়া, পত্রিকার পরিসরগত সমস্যা এবং পরবর্তী সংখ্যাগুলোর জন্য কিছু পরিকল্পনা থাকায় ইচ্ছে থাকলেও অনেকের লেখা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী সংখ্যাগুলোর জন্য অবশ্যই তাঁদের লেখা নেওয়ার ইচ্ছা রইল। আশা করি, সকলের সহযোগিতা পাবো।
তাসত্ত্বেও বলতে চাই,এভাবে তাৎক্ষণিক আহ্বানে যাঁরা আমাকে লেখা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, কিংবা ব্যস্ততার কারণে যাঁরা দিতে পারেননি তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। আর,পত্রিকাটি প্রকাশে সর্বদা যে দু-তিন জন মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা আমার আত্মজন।তাই, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে বিব্রত করতে চাইলাম না। প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা হোক আমাদের পাথেয়।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালির মননে লেগেছে আলো।তাই, আসুন সমস্ত আঁধার দূরে সরিয়ে বিষাদের মধ্যে আনন্দে থাকতে চেষ্টা করি। আর, মারী প্রতিরোধে সার্বিকভাবে আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠি এই প্রত্যাশায়। 🖋
শ্রীজাত
লক্ষ বছর পার করেছি আমি
তোমার হাতেও আদিম কালের শোক
অতীত জীবন মুহূর্তে আগামী
এবার কোথাও নতুন কিছু হোক
সেই তো একই দিনের পরে দিন
পাথর চাপা বয়স বাড়ার ছল
সেই তো একই সন্ধ্যে উদাসীন
বাড়ি ফেরার গল্প অবিকল।
দেশ ভেঙেছ ভাগ হয়েছে মন।
মন ভেঙেছ ছড়িয়ে গেছে তাস
একলা বসে পড়ব কতক্ষণ
একই গ্রহের একই ইতিহাস?
কেবল জানি পালটাবে না সব ।
নতুন কেবল আক্রমণের পথ
উঠবে সেজে ক্ষমতা উৎসব
হামলা নিয়ে তৈরি ভবিষ্যত।
এরই মধ্যে তোমায় খুঁজি আমি
এক ঝলকের সম্ভবনার নাম
অতীত জীবন মুহূর্তে আগামী
নইলে কি আর চিনতে পারতাম?
আমরা আমি তোমরা তুমি ওরা
এক চেহারার নানারকম মুখ
পালটে যাবার স্রোত চিরকাল চোরা।
নিজের কাছে সবাই আগন্তুক
তাও কি শীতের আগুন জ্বালাব না?
হাত বাড়িয়ে নেবো না তার আঁচ
কান পাতলেই বাতাসে যায় শোনা
বাঁচতে হলে বাঁচার মত বাঁচ।
আজ তাহলে বাঁচারই গান জ্বালি
আর একটিবার ঝলসে উঠুক চোখ
তারিখ সেতো পালটে যাবে কালই
সত্যি এবার নতুন কিছু হোক...
আকাশলীনা
বন্ধু আমার কেউ ছিল না, কোনো কালেই,
যাদের ভেবেছিলাম, তারা ঘাস মাড়িয়ে চলে গেছে হেসে…
ওরা প্রেমিক ছিল না,
শরীর দীর্ঘ হতে হতে ভয়ের শিল্প রেখে গেছে
দেওয়ালে দেওয়ালে…
আকাশ থেকে ছিটকে পড়া, ফেরী হয়ে যাওয়া
আশ্রয় বলেছে, আমার নিজের কোনো লবণ নেই,
যেটা মাখিয়ে, তারিয়ে তারিয়ে খাওয়া যায় মৃত্যুগামী অস্তিত্বকে…
আমি রাস্তায় দাঁড়ালে সমুদ্রের কথা ভাবি, ভাবি,
দিকভ্রান্ত নাবিকের কথা
ওরা দরদামহীন হাসাহাসি করে বোকা ভেবে…
দেখো মা, আমি হোস্টেলে না গেলে তুমি আমার
বড়ো দাদাকেই বেশী করে টানতে,
তোমার তিলে তিলে জমানো কন্যাপণ, হলুদ পাতা
হয়ে চেয়ে থাকত সারাজীবন আমার মুখের উপর…
ভাগ্যিস আমার কোন বন্ধু নেই , প্রেমিকও না…
শুধু তোমার কেঁপে ওঠা অহংকারী ফসলের মাঠে
দুহাতে ছুঁয়েছি আমি।
তাজিমুর রহমান
অনির্বাণ
তাজিমুর রহমান
যে মায়াটুকু জড়িয়ে আছে আমাদের কালবেলায়
এসো তাকে নিয়ে নতুন করে সাজিয়ে দিই
মৃত্যুলালিত উপমহাদেশ, পাষাণী আবহ
যদি ছমছমে ভয়ের ভেতর কথা বলে ওঠে বসন্তবৌরি
কিংবা সমস্ত স্তব্ধতা জেগে উঠে বলে আজ বরাভয়
এখন প্রতিটি সকাল এলে জীবনের আয়ু অন্বেষণ!
কে আছে কে নেই হিসেব করার আগে
হেরে যাওয়া মানুষীর কাছে নিবিড় আত্মসমর্পণ
বোধিক্ষেত জুড়ে বিমিশ্র চঞ্চলতা,অথচ
আতসকাচের নিচে এসে ক্ষণিক দাঁড়ালে বুঝতে পারি
প্রতিটি সবুজ কর্নার থেকে ভেসে আসে সাইরেন
লালায়িত সভ্যতা, কূটকৌশলের গূঢ ফলিত গনিত
ভারসাম্যহীন বেদনার বীণ হয়ে বাজে
আর সাপিনীর মায়াবী অলংকারে সেজে ওঠা কুঠার
জলজ ধ্বনিরূপে লিপিময় করে সভ্যতার সংকট
বদলে যায় একে একে প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ
শুধু ভাষাহীন দৃষ্টির ওপারে নাবিক গেয়ে উঠলে
মৃতনগরী ক্রমবর্ধমান আঁধারেও অনির্বাণ আলোক
-
যাঁদের লেখায় এই সংখ্যা সমাদৃত :- কবিতা:- এক মলয় রায়চৌধুরী,গৌরশংকর বন্দোপাধ্যায়, দীপক হালদার, আবদুস শুকুর খান, শ্যামল জানা, শ্রীজাত, শক্ত...





